হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার হোমনা উপজেলার সবুজে ঘেরা জয়নগর গ্রামের অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ স্যারের বাগানবাড়ি পর্যটনকেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়।
ঈদের দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে ভ্রমণে আসেন বিনোদনের জন্য। হোমনায় কোন পর্যটন কেন্দ্র বা পার্ক না থাকায় লোকজন এ বাগান বাড়িতে এসে ঈদ আনন্দ উপভোগ করেন।
জানাগেছে, বাগানবাড়িতে প্রবেশের জন্য ৩০ টাকা করে টিকিট নির্ধারণ করা হলেও অনেককে আবার বিনামূল্যেও প্রবেশ করতে দেখা গেছে। ঈদের ছুটিতে আসা মানুষের উপস্থিতিতে বাগানবাড়িতে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এতে বাগান বাড়িটি অস্থায়ী পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
এ দিকে বাগান বাড়িকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের অস্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।বাচ্চাদের খেলনা, পোশাক, জুতা এবং বিভিন্ন খাবারের দোকান নিয়ে বসেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। শিশুদের বিনোদনের জন্য পুকুরের মধ্যে জলচক্র, ছোট রেলগাড়ি, দোলনা ও বিভিন্ন রাইডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবার ঈদ উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুতুলনাচ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।
এ দিকে ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে প্রতি দিনব্যাপী লোকজনের ভিড়ে খুশি বাগান বাড়ির কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। তবে এখানে কোনো আবাসন বা রিসোর্ট সুবিধা না থাকায় দূর-দূরান্তের পর্যটকদের আগমন তুলনামূলক ভাবে কম বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে র্যাফেল ড্র-এর আয়োজন করা হয়েছে। এতে মোটর সাইকেল, ফ্রিজ, ও খাসি উপহার দেয়া হয়েছে।
জানাগেছে, হোমনা উপজেলায় কোনো পর্যটনকেন্দ্র না থাকায় অবসর সময়ে মানুষ ওয়াই ব্রিজ, তিতাস ব্রিজসহ বিভিন্ন স্থানে ভিড় করতে দেখা গেছে । তবে মজিদ স্যারের এই বাগান বাড়িটি নির্মাণের পর তা স্থানীয়দের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মঙ্গলবার বিকাল ৩টা থেকেই দলবেঁধে মানুষ ঘুরতে আসছেনএই বাগান বাড়িতে। কেহ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসে ছবি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্থানীয়রা মনে করেন পর্যটকের আগমনে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সিএনজি অটোরিকশা চালকরা অতিরিক্ত যাত্রী পাচ্ছেন, এতে তাদের জীবন মান উন্নত হচ্ছে, রাস্তার দুই পাশের ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের মাঝেও ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য।
মুরাদনগর উপজেলার রহিমপুর থেকে আসা কলেজ শিক্ষক মো সাইফুল ইসলাম জানান, “ঈদের ছুটি পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসেছি এ বাগান বাড়িতে। এখানকার পরিবেশ, পুকুরের স্বচ্ছ পানি এবং বিভিন্ন স্থাপনা ও ব্যবস্থাপনা আমাদের মুগ্ধ করেছে।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ পপি লাইব্রেরীর স্বত্তাধিকারী সাবেক এমপি অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ বলেন, “ মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুরে একটি কলেজ,হোমনা উপজেলায় একটি মহিলা কলেজ ও একটি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মানুষের বিনোদনের জন্য এ বাগানবাড়ি গড়ে তুলেছি। মানুষ এখানে এসে আনন্দ পাচ্ছে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
তিনি আরও জানান, বাগানবাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুন নতুন স্থাপনা তৈরির খরচ মেটাতে টোকেন হিসেবে ৩০ টাকা প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
দৈনিক দর্পণ নিউজ দৈনিক দর্পণ নিউজ 24